সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৩:১৪ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
Welcome To Our Website...
সংবাদ শিরোনাম :
পটুয়াখালিতে মাদরাসা শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার বিদ্যমান সমস্যা নিরসন করনীয় ” শীর্ষক কর্মশালা” অনুষ্ঠিত; আত্রাইয়ে ইউএনও শূন্য দুর্ভোগ বারছে জনসাধারণের; মোংলায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে অবৈধ জাল ও পলিথিন জব্দ; মঠবাড়ীয়ায় বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় দোয়া অনুষ্ঠান; কাউখালীতে বার্ষিক ইমাম সমাবেশ অনুষ্ঠিত; কোস্ট গার্ডের অভিযানে অস্ত্রসহ ও গোলাবারুদসহ করিম শরীফ বাহিনীর ২ সহযোগী আটক; নওগাঁর আত্রাইয়ে ইফাঃ শিক্ষার্থীদের নিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিল; নওগাঁয় বিরল গঠনের নবজাতকের জন্মের এক ঘণ্টা পর মৃত্যু; মোংলায় যৌথ অভিযানে হরিণের ৩২ কেজি মাংসসহ আটক-১ ; নওগাঁর আত্রাইয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ উদ্বোধন; দেশীয় জাত, আধুনিক প্রযুক্তি প্রাণিসম্পদে হবে উন্নতি” এনায়েতপুরে দয়াল হুজুর পাকের ইন্তেকালে শোকের ছায়া; কাউখালীতে নাগরিক উদ্যোগ এর আয়োজনে মানববন্ধন ও আলোচনা সভা; নওগাঁর আত্রাইয়ে ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে প্রাণ গেল সেনা সদস্যের; ভান্ডারিয়ায় ৭ দিন ব্যাপি পারিবারিক গাভীপালন বিষয়ক প্রশিক্ষণ কোর্সের শুভ উদ্বোধন; কাউখালীতে শিক্ষার্থীদের মাঝে ভূমি বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত; আত্রাইয়ে লাঙ্গল-বলদের যুগ হারিয়ে যাচ্ছে যান্ত্রিক চাষের দাপটে; পোরশায় বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় নেতাকর্মীদের ঢল; বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের ৩১ দফা বাস্তবায়নের লক্ষে র্্যালি; ঐতিহাসিক তিন গুম্বুজ মসজিদ টি কালের স্বাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ;

নওগাঁয় রোদের তীব্রতায় ঝরে যাচ্ছে আমের গুটি ;

মোঃ ফিরোজ আহমেদ
নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ

দুই সপ্তাহের টানা তাপপ্রবাহের কারণে যেমন জনজীবন অতিষ্ঠ, তেমনই ঝড়ে পড়ছে আমের গুটি। পানি সেচসহ নানা পদ্ধতি অবলম্বন করেও ঝরে পড়া থেকে ঠেকানো যাচ্ছে না আমের গুটি। ফলে চিন্তার ভাঁজ দীর্ঘ হচ্ছে আম চাষিদের কপালে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, নওগাঁয় এবছর ৩০ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের আম চাষ হয়েছে, যা গতবছরের তুলনায় ৩০০ হেক্টর বেশি। প্রতি হেক্টর জমিতে ১৪ দশমিক ২৪ টন হিসেবে ৪ লাখ ৩১ হাজার ৫০০ টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। শনিবার ( ২৬ এপ্রিল) বিভিন্ন আম বাগান ঘুরে দেখা যায়, সবুজ পাতায় ভরে আছে গাছ। কিন্তু নেই কাঙ্ক্ষিত আমের দেখা। গাছে গাছে আমের গুটির খরা। রোদের তীব্রতায় গাছের নিচে অসংখ্য ছোট, মাঝারি আমের গুটি ঝরে পড়ে আছে। এমন পরিস্থিতি আমের বাণিজ্যিক রাজধানী খ্যাত নওগাঁর বেশিরভাগ আম বাগানেই। চাষিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বৈরি আবহাওয়ার কারণে এবছর আম বাগানে মুকুল এসেছিল চাহিদার তুলনায় অনেক কম। এরপর চলতি মাসে প্রায় ১৫ দিনের তীব্র তাপপ্রবাহে আমের বোঁটা শুকিয়ে ঝরে পড়ছে গুটি। এতে পানি সেচ ও নানা পদ্ধতি অবলম্বন করেও ঝরে পড়া ঠেকাতে পারছে না। ফলে এদিকে আম চাষে যেমন খরচ বাড়ছে অন্যদিকে আমের উৎপাদনে বিপর্যয়ের আশঙ্কাও করছেন তারা। সাপাহার উপজেলার তিলনা ইউনিয়নের আমচাষি আব্দুর রউফ বলেন, চলতি মৌসুমের শুরুতে কম ছিল মুকুল। যে মুকুল এসেছিলো সেটি টিকিয়ে রাখার জন্য পরিচর্যা করা হয়। মুকুল বের হওয়া শেষ হলে আমের গুটি আসে। কিন্তু গুটি আসার পর অনাবৃষ্টি ও তাপদাহে প্রতিদিনই আমের গুটি ঝরে পড়ছে। সামনের দিনগুলোতে এমন তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকলে গাছে আম টেকানো কঠিন হয়ে পড়বে। একই এলাকার আরেক আমচাষি আসিফ বলেন, বাগানের আম রক্ষার জন্য দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছি। পানি, ওষুধ দেওয়ার পরও প্রচণ্ড গরম আর রোদের কারনে আমগুলো ঝরে পড়ছে। গাছে আম টেকানো যাচ্ছে না। আবার কালবৈশাখী ঝড় হলে আম নষ্ট হবে। সব মিলিয়ে আম চাষিরা এবছর বড় ক্ষতির মুখে পড়বে। বরেন্দ্র অ্যাগ্রো পার্কের উদ্যোক্তা সোহেল রানা বলেন, সাপাহার উপজেলা এমনিতেই পানি সংকটাপন্ন এলাকায়। এর মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র তাপপ্রবাহ। কোন বৃষ্টি নেই। এ অবস্থা আরও কয়েকদিন চলতে থাকলে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ গাছ থেকে আমের গুটি ঝরে যাবে। যেসব বাগানগুলোতে সেচের ব্যবস্থা আছে সেসব বাগানগুলোতে সেচ দেওয়া হচ্ছে। আর যেসব বাগানে সেচের ব্যবস্থা নেই সেসব বাগানগুলো থেকে আম ঝরে যাচ্ছে। তাই আমাদের সরকারের কাছে দাবি বাগানগুলোতে যেন সেচের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক বলেন, প্রতিবছরই স্বাভাবিকভাবে এমন সময় গাছ থেকে আমের গুটি ঝরে পড়ে। তবে এই সময়ে গাছে বাড়তি পরিচর্যা করলে অস্বাভাবিকভাবে গুটি ঝরে পড়া বন্ধ হবে। আম গাছের গোড়ায় পর্যাপ্ত সেচের পাশাপাশি প্রয়োজনে গাছের পাতায় পানি স্প্রে করা যেতে পারে। আমরা মাঠ পর্যায়ে চাষিদের আমের গুটি ঝরা রোধে সব ধরনের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। তবে এখনো পর্যন্ত আমের উৎপাদনে বিপর্যয়ে কোন আশঙ্কা নেই। কারণ আমের গুটি ঝরে যাওয়র পরও যে পরিমাণ আম থাকবে তা দিয়েই আমাদের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

Copyright © Frilix Group
প্রযুক্তি সহায়তায় মাল্টিকেয়ার